রবীন্দ্রনাথের একটি 'অপ্রাসঙ্গিক' চিঠি

 


লোভ—আসলে লোভ ছাড়া আর কিচ্ছু নয়। নইলে এ-চিঠি এই বইয়ে রাখার কোনো দরকারই ছিল না। বিশ্বভারতীর রবীন্দ্রভবনে গিয়েছিলাম, রবীন্দ্রনাথের কিছু ছবি ও চিঠি উদ্ধার করতে। সেইসব চিঠি, যা তিনি বেলঘরিয়া থেকে লিখেছেন অথবা বেলঘরিয়ার প্রসঙ্গ আছে। সেই চিঠির ভিড়ে পেয়েছিলাম এটিও। বেলঘরিয়ায় তখন প্রশান্তচন্দ্র ও রানী মহলানবীশ থাকতেন। শান্তিনিকেতন থেকে রানীর বেলঘরিয়ার ঠিকানায় লেখা এই চিঠি।

সম্পর্ক বলতে এটুকুই। তারপরেও “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ‘অপ্রাসঙ্গিক’ চিঠি" শিরোনামে, বইয়ের একেবারে শেষে অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম এই চিঠি। কারণ একটাই—এর মন। চিঠিটির শুরু এভাবে—‘বারবার মনের মধ্যে এই ইচ্ছে জাগে কিছুই না করবার সাধনা করি—যে সাধনা দেখতে পাই ঐ শিমুল গাছে, যে আপনার অপর্যাপ্ত ফুলের সমস্ত ঐশ্বর্য ঝরিয়ে দিয়ে আজ নীলাকাশের দিকে তার রিক্ত শাখার নীরব মন্ত্র পাঠিয়ে দিচ্ছে। এই উপকরণহীন সবচেয়ে সহজ সাধনা কিছুতেই আর ঘটে উঠতে চায় না।’

১৯৪০-এর ফেব্রুয়ারি মাস। আয়ু ফুরোতে আর বছর দেড়েক। জীবনসায়াহ্নই বলা চলে। রোগেভোগে, বয়সভারে ক্লান্ত। ইচ্ছা করছে কিছু না-করার সাধনায় মজতে। কিন্তু রেহাই দিচ্ছে কে! চিঠির পরবর্তী অংশে আফসোস—যৌবনে তা-ও সেই অবসর ছিল, ‘আজ দত্তাপহারক বিধাতা নিয়েছেন সেই অবকাশ হরণ করে।’

খানিক পরে, ফুটে উঠছে তাঁর মনোবেদনা। শেষ জীবনেও যে কর্তব্য ও ব্যস্ততা থেকে রেহাই নেই, তারই প্রতিধ্বনি। লিখছেন—‘মানুষের জীবনে প্রথম দিক আর শেষের দিক কর্তব্যের সীমার বাহিরে। প্রথমদিকে জাগরণের আভাসমাত্র, আর শেষের দিকে সুপ্তির আমন্ত্রণ। কিন্তু আধুনিক কালের ব্যবস্থায় মধ্যাহ্নসূর্যের শাসন চলে সকল প্রহরেই।’ প্রায়-অশীতিপর মানুষটিকে, মৃত্যুচিন্তার মধ্যেও সইতে হচ্ছে জীবনের মধ্যাহ্নসূর্যের শাসন। কে রেহাই দেবে তাঁকে!

এই চিঠি যখন নাগালে পেয়েইছি, রাখার সুযোগ ছাড়তে চাইনি। ‘বেলঘরিয়ার ইতিহাস সন্ধানে’-র খাপছাড়া মুকুট হয়ে থেকে গেছে রবীন্দ্রনাথের এই দীর্ঘশ্বাস। বই থেকে চিঠির কয়েকটি লাইন সঙ্গের ছবিতে রইল, কবির হস্তাক্ষরে...

বই - বেলঘরিয়ার ইতিহাস সন্ধানে




Podcast: Language & Literature ft. Tanmoy Bhattacharjee


Video: Panel Discussion at Aaj Tak

Video: Poetry Recitation