কবিতা, জীবন, হিসেবপত্তর
‘আমার বাবার বয়স পঁচাত্তর। আগামী সপ্তাহে তাঁর পেসমেকার
বসবে। এখন তিনি পিজি হাসপাতালে। বিস্তর টাকার দরকার। কবিতা সহায়।’
অনেক বছর আগে, আকাশ— আকাশ গঙ্গোপাধ্যায় স্মৃতি থেকে
শুনিয়েছিল এই লাইনগুলো। তখনও মৃদুল দাশগুপ্তের ‘কবিতা সহায়’-এর বোধশব্দ সংস্করণ
প্রকাশিত হয়নি। ফলে, সহজলভ্য ছিল না সেই বই। কোনো এক আলোচনার মধ্যে, দীর্ঘশ্বাস
ফেলে, আকাশ উচ্চারণ করেছিল— ‘কবিতা সহায়!’ আর্দ্র হয়েছিল মন। মর্মে প্রবেশ করেছিল কি?
তারপর কেটে গেছে আধুলি-দশক। ‘কবিতা সহায়’— এ-দুই শব্দের
মধ্যে যে অপরিসীম অসহায়তা, তা যেন কিছু-কিছু বুঝতে পারছি আমি। কেননা, আমাদেরও বয়স
পেরিয়েছে অতি-গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। কৈশোর-পেরনো সদ্য যৌবন থেকে মধ্য-যৌবনের দিকে
সেই যাত্রা। স্বপ্ন থেকে, স্বপ্নভঙ্গের দিকে। জেদ ও আত্মবিশ্বাস থেকে শূন্যতার
দিকে। অথবা নতুনতর পূর্ণতা— যা ধ্রুব হয়ে থাকবে অবশিষ্ট জীবনে।
কবিতার কাছে হাত পেতে কী চাই আমরা? কিংবা, কবিতা কী দেয়
আমাদের? জীবনের বিভিন্ন স্তরে বদলে-বদলে যায় উত্তর। ধারণা বদলানোর সঙ্গে-সঙ্গে,
বদলাতে থাকে বিশ্বাস। ভাষা। কবিতা
অন্তর্হিত হয় না। বরং, উগ্র মালিকানায় আরও ক্রীতদাস বানিয়ে তোলে। এ-দাসত্ব থেকে রেহাই
নেই। রেহাই নেই জেনে, অসহায় আত্মসমর্পণ। মেনে নেওয়া। মানিয়ে নেওয়া। সেই ভিত্তিতে
জীবন সাজানো। অথবা, সমস্ত তোলপাড় করে বিদ্রোহ ঘোষণা।
কী নিয়ে কেন্দ্রীভূত হবে সেই বিদ্রোহ? যদি অস্ত্র হয় কবিতাই, তাহলে ‘ব্যতিক্রমী’ হয়ে উঠতে চাওয়ার তারুণ্যস্পর্ধা। যদি অস্ত্র হয় জীবন, তাহলে তার মাথায় হাত রাখা। ভবিষ্যতের জন্য আশঙ্কা। কবিতাকে দুয়োরানি করে, জীবন গোছাতে চাওয়া। তারপর? আদ্যোপান্ত অভিমান নিয়ে কাটিয়ে দেওয়া গোটা জীবন। হয় জাগতিক সাফল্য, উপযুক্ত অর্থোপার্জনের ব্যর্থতাকে কেন্দ্র করে অভিমান; নয় কবিতার সরে যাওয়া নিয়ে। এ-দুয়ের মাঝামাঝি কোনো পথ আছে কি, মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা সভ্যতার মতো?...
(সম্পূর্ণ গদ্যটি পড়ার লিঙ্ক - https://www.mysepik.com/kabita-jiban-hisebpattar-tanmoy-bhattacharya/)