কবিতা-বিরোধী ফতোয়া ও বিরুদ্ধ-ফতোয়া
সংবাদমাধ্যমে বা অন্যত্র মাঝেমধ্যেই চোখে পড়ে— ‘অনুভূতিতে আঘাত লাগায় অমুকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের।’ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা ব্যক্তিগত নয়; সর্বজনীন কোনো-কিছু নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ। মনে পড়ে ‘অনুভূতি’ শব্দটার বিকৃত রূপ ও বন্ধুদের হাসিঠাট্টাগুলো। আর এই আঘাত— কীভাবে এসে লাগে? কথায়-কথায় এত আহত হন কেন সকলে?
ইয়ার্কি ছেড়ে কাজের কথায় ফিরি। ধর্ম বা যৌনতা নিয়ে অনুভূতিতে আঘাত ও তা নিয়ে মামলা দায়ের এখন এ-দেশে জলভাত। রোজই কোনো-না-কোনো বিষয় নিয়ে এসব ঘটেই চলেছে। ভাগ্যের বিষয়, বাংলা কবিতার দিকে তেমন অভিযোগ খুব একটা ধেয়ে আসেনি। আসেনি কি? সাম্প্রতিক অতীতে শ্রীজাত-র একটি কবিতা নিয়ে আক্রোশ-আক্রমণ দেখেছি আমরা অনেকেই। মাসকয়েক আগে বাংলাদেশে সরকারি কর্মী হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে কবিতা লেখায় চাকরি খোয়াতে হয়েছে রহমান হেনরীকে। গত অর্ধশতাব্দীতে বাংলাদেশে উদাহরণ হিসেবে পাব দাউদ হায়দারকে, কবিতায় ‘ধর্মীয় অনুভূতি’কে আঘাত দেওয়ার অপরাধে যিনি দেশছাড়া। আরেকটু পিছিয়ে গেলে হাংরি জেনারেশন— বিশেষত মলয় রায়চৌধুরী। এগুলো তাও বৃহৎ-আলোচিত বিষয়, যা প্রশাসন অবধি গড়িয়েছে। এর বাইরেও কত কবিতার উদাহরণ অতীতে-বর্তমানে রয়েছে, যা কাউকে-না-কাউকে আঘাত করেই চলেছে। আর-কিছুতে খাপ না খেলে, পাঠরুচি তথা মেধায় আঘাত। ফলাফল হিসেবে ট্রোলিং।
নির্দিষ্ট কয়েকজন কবির কবিতা বাদ দিলে, বাংলা কবিতার পাঠকসংখ্যা সীমিত। ফলে, বৃহত্তর সামাজিক প্রেক্ষিতে তা চট করে কারোর অনুভূতিতে ‘আঘাত’ দিয়ে বসে না। নয়তো, পড়তে-পড়তে এমন কত কবিতারই মুখোমুখি হয়েছি, যা নিয়ে বিভিন্ন বিভাগের ‘বাদী’রা তাঁদের মনমতো তর্ক জুড়ে বসতেই পারেন। বাংলার অনেক বিখ্যাত কবির তেমন কবিতা-পঙক্তি চাইলে তুলে আনতে পারি এই মুহূর্তেই। কিন্তু তা আমার উদ্দেশ্য নয়। বক্তব্য হল, কবিতাকে এমন কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়াতে হবেই-বা কেন! কোনো শিল্পই পলিটিকাল কারেক্টনেসের দলিল নয়, হতে পারে না। সবদিক বাঁচিয়ে শিল্পচর্চা করতে গেলে, তা আপোস হয়। সিনেমা, ফটোগ্রাফি, গল্প-উপন্যাস, ছবি, গান, নাটক— ইত্যাদি শিল্পমাধ্যমের দর্শক/গুণগ্রাহী কবিতার তুলনায় বেশি হওয়ায়, ‘আহত’দের আক্রমণও এই-এই শিল্পগুলোর ওপরই নেমে আসে বেশি। কবিতা ‘অবহেলিত’ হয়ে এদিক থেকে খানিক নিশ্চিন্ত। কিন্তু পুরোপুরি স্বস্তি আছে কি? আইন-আদালত পর্যন্ত জল না-গড়াক, সামাজিক মাধ্যমে আক্রমণ কি সইতে হয় না কবিতাকেও? বছরকয়েক আগে, শঙ্খ ঘোষের ‘রাস্তা জুড়ে খড়্গ হাতে দাঁড়িয়ে আছে উন্নয়ন’ কবিতা-পঙক্তির বিপরীতে জনৈক রাজনৈতিক নেতার মূর্খ আস্ফালন ভুলিনি কেউই। তারপরও এসব ব্যতিক্রম, কেন-না বাংলা কবিতার পাঠক সীমিত। ফলে, ‘অনুভূতিতে আঘাত’ ও ধেয়ে-আসা আক্রমণের পরিমাণও তুলনায় অনেকটাই কম।...
সম্পূর্ণ নিবন্ধ পড়ার লিঙ্ক -
কবিতা-বিরোধী ফতোয়া ও বিরুদ্ধ-ফতোয়া
